নয়াপট্টি দুর্গাবতী ও উত্তর নয়াপট্টিতে সিঁদুর খেলায় বিজয়ার আনন্দ, নতুন কমিটির উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব
২৪x৭ নিউজ বাংলা এক্সক্লুসিভ | শারদোৎসব ২০২৬
নয়াপট্টি: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর শেষ দিনে আনন্দ, আবেগ ও ঐতিহ্যের এক বিশেষ অধ্যায় বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা। সেই চিরাচরিত রীতি ও সামাজিক সম্প্রীতির আবহে নয়াপট্টি দুর্গাবতী ও উত্তর নয়াপট্টির অধিবাসীবৃন্দের পরিচালনায় ২০২৬ সালের দুর্গোৎসব উপলক্ষে গঠিত হয়েছে নতুন কমিটি।
এবারের কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সঞ্জয় চৌধুরী এবং সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সেন্টু দাস। পাড়ার সকল মহিলা সদস্যের সক্রিয় সহযোগিতা এবং ধনঞ্জয় ঠাকুরের বিশেষ সহযোগিতায় বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলার আয়োজন করা হয়।
পানের পাতা ও মিষ্টি নিবেদনে দেবী দুর্গাকে বিদায়
বিজয়া দশমী মানেই উমার কৈলাসে ফেরার পালা। দুর্গোৎসবের সমাপ্তিলগ্নে প্রথা মেনে দেবী দুর্গার উদ্দেশে পানের পাতা ও মিষ্টি নিবেদন করে তাঁকে বিদায় জানান মহিলারা।
এরপর শুরু হয় বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সামাজিক অনুষ্ঠান সিঁদুর খেলা। বিবাহিত মহিলারা একে অপরের কপাল, মুখ ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন। পাশাপাশি মিষ্টিমুখ করানোর মধ্য দিয়ে পরস্পরের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।
চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী অনেকেই শাঁখা, পলা ও নোয়াতেও সিঁদুর স্পর্শ করান। এই আচার বাঙালি হিন্দু সমাজে দাম্পত্যমঙ্গল ও শুভকামনার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
মহিলা সদস্যদের সহযোগিতায় উৎসবের আবহ
নয়াপট্টি দুর্গাবতী ও উত্তর নয়াপট্টির দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক পাড়ার মহিলা সদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ।
তাঁদের সহযোগিতায় বিজয়া দশমীর আচার-অনুষ্ঠান ও সিঁদুর খেলার আয়োজন বিশেষ মাত্রা পায়। সেই সঙ্গে ধনঞ্জয় ঠাকুরের বিশেষ সহযোগিতার কথাও উল্লেখযোগ্য।
নতুন কমিটির নেতৃত্বে দুর্গোৎসব ২০২৬
নয়াপট্টি দুর্গাবতী ও উত্তর নয়াপট্টির অধিবাসীবৃন্দের পরিচালনায় গঠিত ২০২৬ সালের কমিটির প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
- সভাপতি: সঞ্জয় চৌধুরী
- সম্পাদক: সেন্টু দাস
- বিশেষ সহযোগিতা: ধনঞ্জয় ঠাকুর
- সহযোগিতায়: পাড়ার সকল মহিলা সদস্যবৃন্দ
সিঁদুর খেলায় সম্প্রীতি ও বাঙালিয়ানার বার্তা
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মিলন ও সামাজিক বন্ধনের অন্যতম প্রতীক।
বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা সেই ঐতিহ্যকেই বহন করে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্যেও থাকে আবার ফিরে আসার প্রত্যাশা।
‘আসছে বছর আবার হবে’—এই চিরন্তন আবেগেই শেষ হয় বাঙালির শারদোৎসবের একটি অধ্যায়।
নয়াপট্টি দুর্গাবতী ও উত্তর নয়াপট্টির ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের এই আয়োজন স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগ, সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত।
বিশেষ প্রতিবেদন: 24×7 News Bangla
খবর আপনার জন্য।

















